“বানারীপাড়ায় অবৈধ মাটিকাটা ট্রলার আটক: শেষমেশ প্রভাবশালী শাহিন এসে ছাড়িয়ে দিলেন!”
(বানারীপাড়া প্রতিনিধি)
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের সাকরাল গ্রাম। নদীভাঙনের কবলে পড়া এই এলাকায় বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠে আসছে। স্থানীয়দের দাবি—একটি সিন্ডিকেট নদীর চর ও অন্যের জমি কেটে মাটি সরবরাহ করছে ইটভাটা ও বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে। এর ফলে একদিকে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি মাটিভর্তি ট্রলার আটক করে গ্রামবাসী। তারা অভিযোগ করেন, খলিল সিকদার নামের এক মাটি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবৈধ মাটিকাটা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। আটককৃত ট্রলারটি তার নির্দেশেই চর থেকে মাটি কেটে আনা হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা খলিল সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,
“আমি আ. রবের কাছে মাটি বিক্রি করেছি। জমির মালিক আমার নানা। আমি আসছি ট্রলার ছাড়ানোর ব্যবস্থা করছি। শাহিন ভাই আসছেন, কোনো সমস্যা নেই।”
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী শাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং আটককৃত ট্রলারটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর এভাবে মাটি কাটা না হয়।
কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন—“আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা প্রশাসনের কোনো নির্দেশ ছাড়াই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা কিভাবে আটক ট্রলার ছাড়িয়ে দেন?”
স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, এভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে—শাহিনের মতো নেতারা কি শুধুই মানবিক কারণে ট্রলার ছাড়িয়ে দিলেন, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে আর্থিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ?”
তাদের মতে, প্রশাসনকে পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে এবং অবৈধ মাটিকাটা সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খলিল সিকদার দীর্ঘদিন ধরে চর, নদী ও অন্যের জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছেন। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। প্রতিবারই প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় তিনি রক্ষা পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামবাসী মনে করছেন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থামছে না। তারা বলেন—“যদি প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতো, তবে আজ মাটিকাটা ব্যবসায়ীরা এত বেপরোয়া হতো না। নদীভাঙন রোধে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্পও তাহলে সফল হতো।”
ঘটনার পর সাকরাল গ্রামে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়রা বলছেন “ট্রলার আটক করে যখন আমরা প্রতিবাদ জানালাম, তখন কেন প্রশাসন নয়, একজন রাজনৈতিক নেতা এসে ছাড়িয়ে দিলেন? এইভাবে ক্ষমতা দেখানোর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?”
তাদের দাবি, অবৈধ মাটিকাটা ব্যবসার মূল হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নইলে অচিরেই বানারীপাড়ার নদীভাঙন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে এবং জনজীবন হয়ে উঠবে দুর্বিষহ।