বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে দেওয়ানগঞ্জে প্রতিবাদের ঝড় পিরোজপুরের নেছারাবাদে পাওনা টাকা চাওয়ায় মারপিটের অভিযোগ নেছারাবাদে শারদীয় দুর্গাপূজা -২০২৬ উপলক্ষে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত “৬৩৬ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন”। ​নেছারাবাদে নজরু‌লবর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। নেছারাবাদে নিখোঁজের একদিন পর বিপুল সিকদারের লাশ উদ্ধার নেছারাবাদে বিশেষ অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ পিরোজপুরের নেছারাবাদে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা সংস্হার অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৩০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুইজন। ‎নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি। রংপুরে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব: সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সাংগঠনিক শক্তির নতুন বার্তাঃ সাংবাদিক নেতা ফরিদ খাঁন

বরিশালে অপ-প্রচারের শিকার শ্রমিক নেতা লিটন মীরা, শ্রমিকদের ক্ষোভ

বরিশালে প্রতিহিংসা ও একটি অসাধু মহলের পরিকল্পিত অপতৎপরতার অংশ হিসেবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের এক দায়িত্বশীল নেতা—এমন অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে। শ্রমিক নেতাদের দাবি, একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী ওই শ্রমিক নেতার নাম লিটন মীরা।
লিটন মীরা বর্তমানে বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শ্রমিক নেতারা জানান, তিনি একজন সাধারণ শ্রমিক হিসেবে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। শ্রমিক জীবন থেকে উঠে আসা এই নেতা শ্রমিকদের বাস্তব সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট ও দাবিদাওয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষভাবে অবগত বলেই সংগঠনের ভেতরে তিনি দ্রুত আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

তারা জানান, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়নের নির্বাচনে লিটন মীরা সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি একজন কার্যকর শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে ইউনিয়নের তৎকালীন নির্বাচিত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অকাল মৃত্যুর পর শ্রমিকদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে লিটন মীরাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শ্রমিক নেতারা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে লিটন মীরা ইউনিয়নের সব কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়ম-কানুন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। শ্রমিকদের অধিকার আদায়, যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়ন, মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি সবসময় আলোচনার পথকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

তাদের মতে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে বিভিন্ন সময় বাস মালিক সমিতির নেতৃত্বে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব থাকলেও লিটন মীরা কখনোই ইউনিয়নের ভেতরে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেননি।

ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শ্রমিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, অতীতে যখন বাস টার্মিনালের ব্যবস্থাপনায় ভিন্ন রাজনৈতিক অনুসারীদের নেতৃত্ব ছিল, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রমিক নেতা হিসেবে লিটন মীরাকে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়েছে। এসব কর্মসূচি ছিল টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট- কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। এসব কর্মসূচি রাজনৈতিক না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ায় সেখানে অংশগ্রহণ করা ছাড়া তার বিকল্পও ছিল না।

কিন্তু সম্প্রতি সেই সময়কার কিছু ছবি কৌশলে উপস্থাপন করে তাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন শ্রমিক নেতারা।

তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়েও লিটন মীরা বিএনপির নিয়মিত কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি শ্রমিক সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

এ বিষয়ে লিটন মীরা বলেন, আমি একজন শ্রমিক এবং শ্রমিক নেতা হিসেবেই আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি। ইউনিয়নের স্বার্থে এবং শ্রমিকদের কল্যাণে আমাকে সবসময় দায়িত্বশীল থাকতে হয়েছে। অতীতে যারা টার্মিনালের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াটা ছিল দায়িত্বের অংশ।
এটিকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে অপপ্রচার চালানো অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি শ্রমিকদের আস্থা ও বিশ্বাস নিয়েই আগামীতেও কাজ করে যেতে চাই।

শ্রমিক সমাজের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শ্রমিক সংগঠনের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তারা মনে করেন, দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে দুর্বল করতে এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা শ্রমিক ইউনিয়নের স্বাভাবিক সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ