রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে দেওয়ানগঞ্জে প্রতিবাদের ঝড় পিরোজপুরের নেছারাবাদে পাওনা টাকা চাওয়ায় মারপিটের অভিযোগ নেছারাবাদে শারদীয় দুর্গাপূজা -২০২৬ উপলক্ষে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত “৬৩৬ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন”। ​নেছারাবাদে নজরু‌লবর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। নেছারাবাদে নিখোঁজের একদিন পর বিপুল সিকদারের লাশ উদ্ধার নেছারাবাদে বিশেষ অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৪ পিরোজপুরের নেছারাবাদে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সচেতনতামূলক সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা সংস্হার অভিযানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ৩০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার দুইজন। ‎নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি। রংপুরে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব: সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে সাংগঠনিক শক্তির নতুন বার্তাঃ সাংবাদিক নেতা ফরিদ খাঁন

নদীভাঙনে নিঃস্ব রোমিলা বেগম: ‘আমারে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দেও বাবা’

নদীভাঙনে নিঃস্ব রোমিলা বেগম: ‘আমারে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই দেও বাবা’

আরিফ বিল্লাহ। নেছারাবাদ(পিরোজপুর) প্রতিনিধি।

‎কালীগঙ্গা নদীর করাল গ্রাসে মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা ও এক চিলতে আবাদি জমি। ভিটামাটি হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ষাটোর্ধ্ব রোমিলা বেগমের। সর্বস্বান্ত অসহায় এই বৃদ্ধার একটিই আকুতি—‘নদী তো আমার সগ্‌গোল কাইড়া নিল, এখন মোরে একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই দেও বাবা।’
‎পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের চাঁদকাঠী — কলাখালী খেয়াঘাটের বাসিন্দা মৃত শাহেদ আলী শেখের স্ত্রী রোমিলা বেগম। আকাশে মেঘ জমলেই উৎকণ্ঠা বাড়ে তার। বৃষ্টি নামার আগেই তিনি ছুটে যান বসতঘর সংলগ্ন কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। প্রতিবারই মনে শঙ্কা জাগে আর কতটুকু জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেল? কয়েক বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে নদী এখন এসে দাঁড়িয়েছে তার বসতঘরের একেবারে সন্নিকটে।

‎প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলা আর ভাগ্যের নির্মম পরিনতি নিঃস্ব রোমিলা বেগমের পুরো জীবনটাই আজ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এক সময়ে স্বামী শাহেদ আলীর সবই ছিলো, ক্ষুধার্ত কালীগঙ্গার পেটে তাদের বহু সম্পদ ও জমি বিলীন হয়ে আজ তারা নিঃস্ব।
‎
‎এখন শুধু মাথাগোঁজার ঠাঁই আছে জরাজীর্ণ একটি বসতঘর। ঘরের টিনের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে ঘরের মেজে ভেসে যায়। ঝড় বৃষ্টি হলে যেকোনো সময় বসতঘরটি ভেসে যেতে পারে কালীগঙ্গার পেটে। এই আতংকেই কাটে তার প্রতিটা মুহূর্ত। মাঝেমধ্যে জোয়ারের পানিতে থৈ থৈ করে ঘরের ভিতর পর্যন্ত।
‎
‎জরাজীর্ণ বসতঘরে বসবাস করা রোমিলা বেগম নানাবিধ রোগ ব্যাধিতেও আক্রান্ত। চার কন্যা সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। সংসারের উপার্জন করার মতো কেউ নেই। বড় মেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের সামান্য আয়ে নিদারুণ কষ্টে কাটে তার প্রত্যহিক জীবন।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালীগঙ্গার অব্যাহত ভাঙনে প্রতিনিয়ত রোমিলা বেগমের মতো অনেক পরিবারই নিঃস্ব হচ্ছে। কিন্তু উপযুক্ত পুনর্বাসন না পাওয়ায় এদের মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। রোমিলা বেগমের আকুতি এখন শুধু কালীগঙ্গা পাড়ের বাতাসেই ভাসছে না, তা হয়ে উঠেছে বাস্তুহারা হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার তাড়না।
‎
‎​ঝড়-বৃষ্টি আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানো এই বৃদ্ধা এখন তাকিয়ে আছেন সরকারি ও বেসরকারি মানবিক সহায়তার দিকে। একটু আশ্রয়, মাথার ওপর একটুকরো নিরাপদ ছাদই পারে রোমিলা বেগমকে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগ করে দিতে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুক পেজ