কালিহাতীতে লাশের পাশে বসে ছেলে হত্যার বিচারের আকুতি পিতার
শরিফুল ইসলাম মাহফুজ টাঙ্গাইল থেকে, টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বল্লা ইউনিয়নের রামপুর- কোকরাইল গ্রামের দক্ষিণ পাড়া একটি পুকুরের পাশে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারী কুপিয়ে রায়হান (৩০) নামের একজনকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে জনির বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ মে) ভোররে উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর- কোকরাইল গ্রামের রিপনের বাড়ীর সামনে ছোট একটি পুকুরের পাশ থেকে রায়হানের লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রায়হান উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের রামপুর- কোকরাইল দক্ষিণ পাড়া গ্রামের বাদলের ছেলে।
নিহত রায়হানের মা জানান, মোন্না নামের এক ছেলে রাত চারটার দিকে বাড়িতে এসে বলে রাহান কে কুপায়তেছে জনি আর আউয়ালের ছেলে এবং
খন্ডর ছেলে রায়হানকে ধরে রইছে। পরে ঘটনাস্থলে রায়হানের বাবাকে সাথে নিয়ে গিয়ে খুঁজা-খুঁজি করে দেখি পুকুর পাড়ে আমার বাবা পরে আছে। সে দুজনের বাবার নাম বলতে পারলেও ছেলের নাম তাৎক্ষণিক বলতে পারেনি।
নিহতের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী বাঝ রাতে ফোন দিয়ে মুড়ি ভর্তা করার জন্য পেঁয়াজ মরিচ রেডি করতে বলে। কিছুক্ষণ পরে বাড়ীতে এসে পেঁয়াজ মরিচ ও মুড়ি চানাচুর নিয়ে যায়, এসময় সাথে আরও একজন লোক থাকলেও আমি তাকে চিনতে পারিনি।
নিহত রায়হানের বাবা বাদল বলেন, রাত চারটার দিকে আমার মামাত ভাই মোন্না বাড়িতে এসে বলেন রায়হান কে মাইরা ফেল্লো তাড়াতাড়ি আহ। পরে দৌড়ে যাইয়া দেখি রায়হানে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পরে আছে। মোন্না সবাইকে চিনে। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। আমার ছেলেকে হত্যা করেছে আনোয়ারের ছেলে রায়হানে সম্বন্ধী জনি।
এবিষয়ে পিতা মৃত গাজি মাহামুদর ছেলে মোন্নার মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেনি।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম ভূঁইয়া এবিষয়ে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দাঁড়ালো অস্ত্র দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে ৮-৯ জায়গায় আঘাতের চিহ্ন সহ রায়হান নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কি কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে সেটা তদন্তের পর জানা যাবে।
নিহতের মরদেহ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এসময় স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিনিয়তই রাতে হলে মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠে। রাত গভীর হলেই এখানে মদ খেয়ে মাতলামি ও কান্নাকাটির শব্দ শোনা যায়। তবে এখানে প্রশাসনের তেমনটা নজরদারি নেই।